অন্যান্য লেখক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অন্যান্য লেখক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

দৈব সংযোগ | ছোটগল্প

ইফতেখার আমিন |

অনেকক্ষণ ধরে কাশির মতো আওয়াজ করছিল ইঞ্জিন, হঠাৎ হঠাৎ থেমে পড়ার হুমকি দিচ্ছিল গাড়ি। কিন্তু এ রকম হওয়ার কথা ছিল না। লন্ডন ছাড়ার আগে পরিচিত মেকানিক দিয়ে ইঞ্জিন থরো চেক-আপ করিয়ে নিয়েছিলাম। তার পরও…শেষবারের মতো আরও দুটো ঝাঁকি দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল গাড়ি। আমরা তখন একটা খাড়া পাহাড়ের চূড়ায় উঠেছি।
ইয়া আল্লা! মনে মনে বললাম, এই বুনো কান্ট্রিসাইডে ফেঁসে না যাই! মানুষ বাস করে এমন কোথাও পৌঁছাতে সাহায্য করো।

বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

লৌহকার | ছোটগল্প

সুদিপ্ত শাহীন |

— লালু ছোট ভাই হয়ে এত কিছু পারে! আর তোমার নুন আনতে পান্তা ফুরায়! আহা রে মরদ আমার?
—চুপ কর। মুখে খালি আজেবাজে কথা।
—আজেবাজে কথা হবে না তো কী রসগোল্লার রস চুয়ে চুয়ে পড়ব?
—পড়লে তো ভালোই হতো!
—উঁহু, পড়লে তো ভালোই হতো। মরদ ব্যাটা, মরদের মতো কথা কবা। তেল ছাড়া বাত্তি জ্বলে, যে পাত্তি ছাড়া মিষ্টি কথা শুনবা? কী দিছো আমারে মিষ্টি কথা শুনবার চাও?
রাগে গরগর করতে করতে রান্নাঘরে চলে যায় কালু কামারের বউ। সন্ধ্যা থেকেই তিরিক্ষি মেজাজ। জোরদার কারণও আছে। কালু, লালু দুই ভাই। দুজনই কামার।

সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৬

টোপ | ছোটগল্প

টোপ

মাহবুবুল হক শাকিল |
অলংকরণ: মাসুক হেলাল
রাশেদুজ্জামান সাহেব চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তাঁর দিনগুলো ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে গিয়েছিল, অনেকটা ব্যস্ত ট্রাফিক জ্যামের রাস্তায় ধুঁকতে থাকা বহু পুরোনো লক্কড়-ঝক্কড় বাসের মতো। যে বাসের না আছে চাকচিক্য, না আছে গতি। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে অন্য সব নতুন বডির দ্রুতগামী গাড়ির ধুলো খাওয়াটাই হয়ে যায় যার অনিবার্য নিয়তি।
রাশেদুজ্জামান সাহেবকে কাছের মানুষ রাশেদ নামেই চেনে, অফিসের লোকজনের কাছে তিনি ছিলেন জামান সাহেব। আপাতসুখী জামান সাহেব থাকেন তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে। দুই ছেলে। দুজনেই বিবাহিত, সন্তানসন্ততির জনক, থাকে বাইরে। বড়টা থাকে কানাডায়, মন্ট্রিয়লে, ছোটটা ফ্রান্সের প্যারিসে। দেশে আসে দুবছর অন্তর। জামান সাহেব থাকেন মিরপুর, পল্লবীতে, হাজার স্কয়ারফিটের ফ্ল্যাটে। দুজনের জীবন খুব একটা আঁটোসাঁটো মনে হয় না।

শুভ্র ও কেউ একজন | ছোটদের গল্প

তুষার কান্তি সরকার |

অলংকরণ: মাসুক হেলাল
সেদিন সন্ধ্যায় বৃষ্টির পর ভেজা রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েছিল শুভ্র। চুপ করে বাসা থেকে বের হয়েছিল যেন মা টের না পান। শুভ্রর বয়স ১০ বছর। ছোট্ট একজন মানুষ। তার একা বেড়ানোটা ঠিক নয়। তা ছাড়া ভয় লাগার কথা। কোনো কারণে হয়তো শুভ্রর ভয় লাগে না।
এ সময় রাস্তাটা ফাঁকা থাকে, ল্যাম্প পোস্টের আলোয় ভেজা রাস্তার কালো পিচ চিকচিক করে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ মনে হলো, সে একা নয়। কেউ যেন তার সঙ্গে হাঁটছে। সামনে-পেছনে তাকাল। ডানে-বাঁয়ে তাকাল। কেউ নেই। থাকার কথাও নয়। ওপরের দিকে তাকিয়ে শুভ্র অবাক হলো। আকাশ এত সুন্দর গাঢ় নীল হতে পারে, তার ধারণাও ছিল না। আর সে তো ছোট মানুষ, ধারণা করতে যাবে কেন।