বাংলা ব্যাকরণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলা ব্যাকরণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বাক্য | বাক্যতত্ব | বাংলা ব্যাকরণ

বাক্য

অর্থবহ কথাকেই বাক্য বলে। ভাষার মূল উপকরণ বাক্য আর বাক্যের মৌলিক উপাদান শব্দ আর শব্দের মূল উপাদান বর্ণ। বর্ণের মূল উপাদান ধ্বনি। অর্থবহ শব্দ বা শব্দসমষ্টি বা কিছু শব্দসমন্বয়ে মনের ভাব প্রকাশের প্রক্রিয়াই বাক্য। অন্যভাবে বলা যায়, পরস্পর অর্থবহ শব্দ দ্বারা গঠিত একটি সম্পূর্ণ বক্তব্যকে বাক্য বলে। সাহিত্যের বাহ্যিক উপকরণের মধ্যে বাক্যই প্রধান। তাই বাক্যকে যতই শুদ্ধ রাখা যায় ততই তার অর্থ ও রস আস্বাদন করতে সহজ হয়। বাংলা বাক্যের ধরন অনেক প্রকার। কোন বাক্যের কর্তা আছে। আবার কোন বাক্যের কর্তা নাই। কোন বাক্যের ক্রিয়া নাই, এসব বাক্যকে অনুক্ত ক্রিয়া বাক্য বলে। যেমন: এই আমাদের ছোট্ট গ্রাম। এ আমার শিক্ষকের কথা। বাংলাদেশ এক দরিদ্র দেশ। তোমার জীবনের লক্ষ্য কী?
ব্যাকরণবিদগণ বিভিন্নভাবে বাক্যের সংজ্ঞা দিয়েছেন। যেমন :
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, যে পদ বা শব্দ-সমষ্টির দ্বারা কোনও বিষয়ে বক্তার ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকটিত হয়, সেই পদ বা শব্দ-সমষ্টিকে বাক্য বা Sentence বলে।

বাক্যের পদক্রম | বাক্যতত্ব | ব্যাকরণ

বাক্যের পদক্রম

ভাষার মূল উপাদান বাক্য আর বাক্যের মৌলিক উপাদান শব্দ। বাক্য তৈরি করতে শব্দ ও শব্দ বসালেই হবে না। সার্থক শব্দক্রম বা পদক্রম করেই বাক্য বানাতে হয়। একটি সার্থক বাক্যের পদক্রমে তিনটি গুণ বিদ্যমান থাকা জরুরি। যেমন: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা। বাক্যের সার্থক পদক্রমকে কৌশলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়। যেমন :

ক) আকাঙ্ক্ষা : সম্পূর্ণ বাক্য হলো আকাঙ্ক্ষা।
বাক্যের অর্থ পরিস্কারভাবে বোঝার জন্য এবং বাক্যকে সম্পূর্ণ করার জন্য এক পদের পর অন্য পদ বা খণ্ডবাক্য শোনার যে ইচ্ছা তাই আকাঙ্ক্ষা। আকাঙ্ক্ষা হলো বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণভাবে বুঝার জন্য পরবর্তী পদ শোনার ইচ্ছা। যেমন: বল বীর বল ...এর পরের কথা না বললে আকাঙ্ক্ষাহীন বাক্য হবে। পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে...। সে লেখাপড়া কোরে...। বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এবং বাক্যকে সম্পূর্ণ করার জন্য, প্রথম বাক্যের সঙ্গে ‘ঘোরে’ এবং দ্বিতীয় বাক্যের সঙ্গে ‘ভাল চাকরি করবে বা জ্ঞানী হবে’ খণ্ড বাক্যের দরকার হয়।

উক্তি /Speech /Narration | বাক্যতত্ব | বাংলা ব্যাকরণ

উক্তি /Speech /Narration

প্রত্যয়ের মাধম্যে ‘উক্তি’ শব্দটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় ‘Öবচ্+ক্তি=উক্তি’। উক্তি মানে কথা বলা। কোন কথোকের বাককর্মের নামই উক্তি।

উক্তির প্রকরণ
উক্তিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন :
১. প্রত্যক্ষ উক্তি : বক্তার হুবহু কথাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে /Direct Speech। যেমন: রহিম বলল, ‘ফারুক এখন বাড়ি আছে।’
২. পরোক্ষ উক্তি : এক বক্তার কথা অন্য বক্তা পরিবর্তন করে বলাকে পরোক্ষ উক্তি/Indirect Speech বলে। যেমন : রহিম বলল যে ফারুক তখন বাড়ি ছিল।

উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর করাকেই উক্তি পরিবর্তন বলে। ইংরেজিতে উক্তি পরিবর্তনের কতগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। কিন্তু বাংলায় তেমন ধরাবাঁধা নিয়ম নাই। অর্থের দিকে দৃষ্টি রেখে উক্তির পরিবর্তন করতে হয়।

যতিচিহ্ন /Punctuation | বাক্যতত্ব | বাংলা ব্যাকরণ

ভাব প্রকাশের মাধ্যম হলো ভাষা বা কথা যা বের হয় বাগযন্ত্রের সাহায্যে ফুসফুসের শ্বাসে। এসব কথা হতে পারে কবিতা, কাহিনি বা যে কোন রচনার সদৃশ। এরা কথ্যরূপে বা লেখ্যরূপে উপস্থিত হতে পারে। কথ্যরূপের দোষ না থাকলেও লেখ্যরূপের অনেক দোষ। ব্যাকরণে ধ্বনি, শব্দ, বানান ও বাক্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি যতিও। বাংলার যতি আর ইংরেজির Punctuation-এর ব্যবহার একই কারণ বাংলার যতি ইংরেজি থেকে হুবহু এসেছে (শুধু দাঁড়ি বাদে) যাদের ব্যবহারও একই রকম।

যতির ইতিহাস
দাঁড়ি (ইংরেজিতে ফুলস্টপ) বাদে বর্তমানে ব্যবহৃত সবগুলো যতিই ইংরেজি থেকে নেয়া। গ্রিক Punctus (বিন্দু) শব্দ থেকে ইংরেজি Punctuation এসেছে। এই বিন্দু বা Point থেকে Priod of fullstop ব্যবহৃত হয়।

বাগর্থ | বাংলা ব্যাকরণ

অর্থ পরিবর্তন

বাগর্থ (বাক+অর্থ) একটি সন্ধিজাত শব্দ। বাক বা শব্দের অর্থই বাগর্থ। একটি শব্দে আভিধানিক অর্থ থাকলেও সেই অর্থের বাইরেও নানা অর্থ প্রকাশ পেতে পারে। যদি কেউ বলে, চলার সময় চোখ কান খোলা রেখো। এখানে শরীরের সাথে যে ‘চোখ বা কান’ থাকে তার কথা না বলে সজাগ বা সচেতন থাকার কথা বলা হয়েছে। বাগর্থ ও শব্দার্থ একে অন্যের পরিপূরক। শব্দের অর্থবিচার, অর্থের বিভিন্ন দিক, তার পরিবর্তন, প্রসার ও সংকোচন ইত্যাদি বিচারের যে বিজ্ঞান তাকেই বাগর্থ বলে। তবে এই অর্থ সাধারণ বা আক্ষরিক অর্থ বুঝিয়ে থাকে। কারণ আক্ষরিক অর্থ প্রকাশিত হলেই অন্যান্য অর্থ প্রকাশিত হবে। যদি কথা শব্দের অর্থ গূঢ় হয় তাহলেও এর আক্ষরিক অর্থ অগ্রাহ্য করার উপায় থাকে না।

বাংলা ভাষার অপপ্রয়োগ ও শুদ্ধ প্রয়োগ | বাংলা ব্যাকরণ

শুদ্ধ বলা বা লেখা সৃজনশীল কাজ। আর এই শুদ্ধ বলা বা লেখা নির্ভর করে ব্যাকরণের ওপর। ব্যাকরণ ভাষাকে সুন্দর, মার্জিত ও শৃংখলাবদ্ধ করতে সাহায্য করে। তাই ব্যাকরণকে ভাষার সংবিধান বলে। ভাষার শুদ্ধ প্রয়োগের মাধ্যমেই বাংলা ভাষাকে সম্মান প্রদর্শন করা হয়। বাংলা ভাষাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা যায়, শুদ্ধ বলে বা লেখে। ব্যাকরণজ্ঞান থাকলে ভাষার অশুদ্ধ প্রয়োগ ও শুদ্ধ প্রয়োগ অর্থাৎ অপপ্রয়োগ সম্পর্কে সচেতন থাকা যায়।

ভাষা অপপ্রয়োগের ক্ষেত্র
বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাষার অপপ্রয়োগ হতে পারে। যেমন:
১. শব্দ রূপান্তজাত অপপ্রয়োগ: দৈন্যতা, মাধুর্যতা, সমসাময়িক, উদ্ধেলিত, চোখের দৃষ্টিশক্তি, মাতাহারা।
২. শব্দদ্বিত্ব অপপ্রয়োগ      : শুধু/কেমলমাত্র, অশ্রুজল, ঘামজল, ভুলত্রুটি, ভুলভ্রান্তি।
৩. সংখ্যাজাত অপপ্রয়োগ    : ১ জুলাই/১লা জুলাই।
৪. বচনজাত অপপ্রয়োগ     : বড় বড় মানুষরা সব, সকল/সমস্ত /সব যুদ্ধাপরাধীদের।
৫. নির্দেশকজাত অপপ্রয়োগ   : এই লোকটি।

সমার্থক বা প্রতিশব্দ | নির্মিতি | বাংলা ব্যাকরণ

একই বা সমান অর্থের শব্দকে প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ বলে। অথবা এমন অনেক শব্দ আছে যাদের অর্থ একই কিন্তু উচ্চারণ ভিন্ন, সেসব শব্দকে সমার্থক শব্দ বলে। অথবা মেয়ে, মেয়েমানুষ, মেয়েছেলে, মাইয়া, কনে, কন্যা, ঝি, বেটি, ঝিউরি, ঝিয়ারি, পুত্রী, দুহিতা, আত্মজা, দুলালী, কুমারী, নন্দিনী, তনয়া, তনুজা, পুত্রিকা, দারিকা ইত্যাদি শব্দগুলো একই অর্থ প্রকাশ করে তাই এগুলো সমার্থক শব্দ। অথবা Synonym is a word which expressingthe same meaning with another /Expressing the same meaning words is called synonym or similar word|
সমার্থক শব্দের প্রয়োজনীয়তা
ভিন্নভিন্ন ভাষার শব্দ থেকে আগত শব্দ, অর্থের দিক দিয়ে এক হলেও অর্থ দ্যোতনার দিক খেয়াল রেখে শব্দ ব্যবহার করা উচিত। যেমন: জল ও পানি একই অর্থবোধক শব্দ কিন্তু জলচ্ছ্বাসকে পানিচ্ছ্বাস লিখলে বাক্যের গুণ নষ্ট হয়।

ভিন্নার্থক শব্দ বা সমোচ্চারিত শব্দ | নির্মিতি | বাংলা ব্যাকরণ

যেসব শব্দের উচ্চারণ প্রায় এক কিন্তু বানান ও অর্থ ভিন্ন সেসব শব্দকে সমোচ্চারিত শব্দ বলে। অন্যভাবে বলা যায়, উচ্চারণে অভিন্ন এবং অর্থে ভিন্ন যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয় তাকে সমোচ্চারিত শব্দ বলে।
লিখতে গেলে আমরা কিছু শব্দের বানান নিয়ে সংশয়ের মধ্যে থাকি। যেসব বানান প্রায় এক কিন্তু অর্থ আলাদা। জাদুর চুড়ি পরে সে প্রতিরাতেই চুরি করতে যায়। চুড়ির স্থান বদল হলে বাক্যের কী হাল হবে! এরা শুধু অর্থকেই ঠিকরাখে না, এরা বাক্যে বসে বাক্যকে সুন্দর ও অলংকারমণ্ডিত করে।

সমোচ্চারিত শব্দের প্রকরণ
১. সমধ্বনি: ণন, শ—ষ—স, উ—ঊ ইত্যাদি দ্বারা শব্দ গঠিত হতে পারে। যেমন: শোনা— সোনা।
২. সমরূপ : যার বানান ও উচ্চারণ এক কিন্তু অর্থ ভিন্ন।

বিপরীতার্থক শব্দ | নির্মিতি | বাংলা ব্যাকরণ

প্রদত্ত শব্দ বা মূলশব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশক শব্দকে বিপরীত শব্দ বলে। অথবা একটি শব্দের অর্থ যদি তার বিপরীত বা উল্টো বা নাবোধক হয় তাহলে সেই শব্দকে বিপরীত শব্দ বলে। অন্যভাবে বলা  যায়, পরস্পর বিপরীত ভাবার্থক দুটো শব্দকেই বিপরীত শব্দ বলে।
ড. সুনীতিকুমারের মতে, দুটি শব্দের অর্থ পরস্পর বিপরীত হইলে, শব্দ দুটিকে বলা হয় বিপরীতার্থক শব্দ।
ড. সুকুমার সেনের মতে, কোন শব্দ অন্য একটি শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করলে সে শব্দ দুটিকে পরস্পরের বিপরীতার্থক বা বিপরীত শব্দ বলে।

বাক্যসংকোচন বা এক কথায় প্রকাশ | নির্মিতি | বাংলা ব্যাকরণ

বাক্যসংকোচন হলো বহুপদের সমষ্টিতে একটি পদ। বহুপদকে একপদে পরিণত করাকে বাক্যসংকোচন বলে। অথবা কথার অর্থপূর্ণ সংকোচিত ভাবই বাক্যসংকোচন। মানুষের মনে ভাবের সীমা নাই। আর এই ভাবকে ভাষায় প্রকাশ করে মানুষ তার ভাব-আবেগ-প্রয়োজন আর কর্তব্য পূরণ করে। বাক্যসংকোচনের মাধ্যমে ভাবগুলো সহজে প্রকাশ করা যায়। অর্থাৎ বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার জন্য বাক্যের বহুপদকে একপদে পরিণত করাকে বাক্য সংকোচন বলে। যেমন: এক সঙ্গে যারা যাত্রা করে —সেটিকে আমরা এককথায় বলি ‘সহযাত্রী’।

বাক্যসংকোচনের প্রয়োজনীয়তা
অল্পকথায় মনের ভাব প্রকাশ করতে, কথাকে সহজ, সংক্ষিপ্ত, শ্রুতিমধুর ও শক্তিশালী করতে, নতুন শব্দ তৈরি করতে এবং সময় বাঁচাতে বাক্যসংকোচনের গুরুত্ব অনেক।

বাগধারা | নির্মিতি | ব্যাকরণ

বাগধারা ভাষায় বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয় বলে বাগধারা ভাষাকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলে। বাগধারা বাংলা ভাষার শব্দ ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। বাগধারার আছে আলাদা প্রকাশভঙ্গি। বাক্যরীতি থেকে বাগভঙ্গি, সব ক্ষেত্রেই এর নিজস্ব শৈলী। যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছ দিয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ পায় তাকে বাগধারা বলে। বাগধারায় এমন একটি শক্তি আছে যা সাধারণ অর্থে বোঝা যাবে না। যেমন: ‘গোবরগণেশ, বিড়ালতপস্বী, গোবরে পদ্মফুল, ঘোড়ার ডিম, কই মাছের প্রাণ। বাগধারা তিন প্রকারে ভাব প্রকাশ করে থাকে।

প্রবাদ-প্রবচন | নির্মিতি |বাংলা ব্যাকরণ

লোকসাহিত্যের বিভিন্ন শাখা রয়েছে। তার মধ্যে প্রবাদ সমকালকে সবচে বেশি স্পর্শ করে আছে। আধুনিক যুগে সব ধরনের রচনায় প্রবাদ ব্যবহৃত হয়। কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, নাটক, সংবাদপত্র, বিজ্ঞাপন, বক্তৃতা, দৈনন্দিন কথাবার্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রবাদের ব্যবহার অহরহ লক্ষ্য করা যায়। প্রবাদ লোকসাহিত্য ধারায় ক্ষুদ্রতম রচনা। ‘গরু মেরে জুতা দান’, ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান বানে’, ‘অতি চালাকের গলায় দড়ি/অতি বোকার গায়ে বেড়ি’ ইত্যাদি প্রবাদে দুই শব্দের বাক্য থেকে দুই চরণের বাক্য আছে। প্রবাদ যতোই ক্ষুদ্র হোক না কেন তা পূর্ণাঙ্গ ভাব ও অর্থবহ। প্রবাদ মানুষের সামাজিক বাস্তব অভিজ্ঞতাপ্রসূত এবং মূলত বুদ্ধিপ্রধান রচনা। একটি প্রবাদ মানুষের ব্যবহারিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা উপলব্ধি থেকে জন্ম নেয়। ‘অতি সন্যাসীতে গাজন নষ্ট’, ‘চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে’, ‘জোর যার মুলুক তার’, ‘লাগে টাকা, দিবে গৌরীসেন’, ‘কোম্পানির মাল দরিয়া মে ঢাল’, ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’ ইত্যাদি প্রবাদের আটসাঁট গড়ন, এতে বাড়তি কোন বিষয় নাই। স্বল্প কথায় খুব বেশি অর্থ বহনক্ষমতা। প্রবাদের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো বিশেষ উক্তি বা কথন।

বিশিষ্টার্থ শব্দ | নির্মিতি | বাংলা ব্যাকরণ

বাংলাভাষায় কিছু শব্দ রয়েছে যাদের আভিধানিক বা সাধারণ অর্থ ও বিশেষ অর্থ এক নয়; এদের বিশিষ্টার্থ শব্দ বলে। বাংলা ভাষায় কিছু বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়াশব্দ রয়েছে যারা আভিধানিক অর্থ ছাড়াও ব্যবহারিক বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। এদের পরে অন্য অর্থবোধক শব্দ বসে বিশেষ অর্থ প্রকাশ পায়। পরিবেশ বা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে বিশেষ অর্থ প্রকাশ পায়। এরা শিষ্টরীতি, শব্দরূপান্তর, শব্দের উৎকর্ষ ও অপকর্ষ, শব্দের অর্থ সংকোচন ইত্যাদি অর্থে প্রকাশ পায়।

বিশিষ্টার্থ শব্দের ব্যবহার
শব্দ   আভিধানিক বা সাধারণ অর্থ        বিশেষ অর্থ         বাক্যরচনা

পারিভাষিক শব্দ | নির্মিতি | বাংলা ব্যাকরণ

অভিধানে পরিভাষার অর্থ সংক্ষেপার্থ শব্দ। অর্থাৎ যে শব্দের দ্বারা সংক্ষেপে কোন বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে ব্যক্ত করা যায় তাই পরিভাষা। সাধারণত পরিভাষা বললে এমন শব্দ বা শব্দাবলি বোঝায় যার অর্থ পণ্ডিতগণের সম্মতিতে স্থিরীকৃত হয়েছে এবং যা দর্শন বিজ্ঞানের আলোচনায় প্রয়োগ করলে অর্থবোধে সংশয় ঘটে না। অন্যভাবে বলা যায়, সুনির্দিষ্ট সংক্ষেপার্থ সংশয়মুক্ত শব্দই হলো পরিভাষা। সহজভাবে বললে, বিশেষ ভাষা। ইংরেজি শব্দের স্বাদ, গন্ধ, বৈশিষ্ট্য, চরিত্র, সম্পর্ক, অর্থ ইত্যাদি অনুসারে বাংলা শব্দে রূপ দেয়া হয় তাকে পারিভাষিক শব্দ বলে। যেমন : Oxygen-অম্লজান, Act-আইন, Farm- খামার।

ভাষা, ভাষার বৈশিষ্ট্য, ভাষার পরিচয়, বাংলা ভাষার উৎপত্তি | বাংলা ব্যাকরণ

ভাষা
মানুষ তার ভাব, ভাবনা, চিন্তা ইত্যাদি ভাষার মাধ্যমেই প্রকাশ করার জন্য অর্থাৎ নিজেদের প্রয়োজনেই নিজেরাই ভাষা গড়ে তুলেছে। ভাষার বৈশিষ্ট্য হলো বদলে যাওয়া। ভাষার বিবর্তনধারা লক্ষ করেই পণ্ডিতগণ ‘প্রাচীন বাংলা’, ‘মধ্যযুগীয় বাংলা’ অথবা ‘আধুনিক বাংলা’ নাম দিয়েছেন। প্রাচীন বাংলার আদিতম নিদর্শন ‘চর্যাপদের’ ভাষার সঙ্গে তাই আদি মধ্যযুগের বাংলা ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের’ ভাষার পার্থক্য রয়েছে। আবার এগুলোর সঙ্গেও পার্থক্য দেখা যায় অন্ত্যমধ্যযুগের বাংলা, আলাওলের কাব্য ‘পদ্মাবতী’ কিংবা ভারতচন্দ্রের কাব্য ‘অন্নদামঙ্গলে’। অথবা ষোড়শ শতকের চিঠিপত্রে বা দলিলাদিতে যে বাংলা গদ্যের নিদর্শন পাওয়া গেছে সেসব ভাষানিদর্শনের সঙ্গে বিদ্যাসাগরের ভাষারও পার্থক্য রয়েছে। যেমন রয়েছে বিদ্যাসাগর-বঙ্কিমের ভাষার সঙ্গে আর রবীন্দ্রনাথ-প্রমথ চৌধুরী’র ভাষার।