ব্যাকরণ(9-10) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ব্যাকরণ(9-10) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

শব্দ অনুচ্ছেদ | ১ম অংশ

পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দের সংজ্ঞা ও প্রকরণ

সব ভাষায় লিঙ্গভেদে শব্দভেদ আছে, বাংলা ভাষায়ও আছে। বাংলা ভাষায় বহু বিশেষ্য পদ রয়েছে যাদের কোনোটিতে পুরুষ ও কোনোটিতে স্ত্রী বোঝায়। যে শব্দে পুরুষ বোঝায় তাকে পুরুষবাচক শব্দ আর যে শব্দে স্ত্রী বোঝায় তাকে স্ত্রীবাচক শব্দ বলে। যেমন : বাপ-মা, ভাইবোন, ছেলেমেয়ে কেউই মৃত্যুর সময় তার কাছে ছিল না। এ বাক্যে বাপ, ভাই ও ছেলে পুরুষবাচক শব্দ আর মা, বোন ও মেয়ে স্ত্রীবাচক শব্দ।
বাংলায় পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। যেমন :
১. পতি/স্বামী ও পত্নীবাচক অর্থে
আব্বা-আম্মা         চাচা-চাচি             কাকা-কাকি          জ্যাঠা-জেঠি           দাদা-দাদি              নানা-নানি
নন্দাই-ননদ           দেওর-জা              ভাই-ভাবি/বৌদি  বাবা-মা                 মামা-মামী
২. পুরুষ ও মেয়ে বা সাধারণ পুরুষ বা স্ত্রীজাতীয় অর্থে
খোকা-খুকি        পাগল-পাগলি        বামন-বামনি        ভেড়া-ভেড়ি          মোরগ-মুরগি       
বালক-বালিকা    দেওর/দেবর-ননদ

শব্দ অনুচ্ছেদ | ২য় অংশ

সমাস

সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। যেমন : দেশে সেবা=দেশসেবা, বই ও পুস্তক=বইপুস্তক, নেই পরোয়া যার =বেপরোয়া। বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে সমাসের সৃষ্টি। সমাস দ্বারা দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে নতুন অর্থবোধক পদ সৃষ্টি হয়। এটি শব্দ তৈরি ও প্রয়োগের একটি বিশেষ রীতি। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। তবে খাঁটি বাংলা সমাসের দৃষ্টান্তও প্রচুর পাওয়া যায়। সেগুলোতে সংস্কৃতের নিয়ম খাটে না।
সমাসের বৈশিষ্ট্য
১. পাশাপাশি দুই বা তার অধিক শব্দ থাকতে হবে
২. এসব শব্দের মধ্যে অর্থসংগতি থাকতে হবে
৩. এসব শব্দের মধ্যে বৃহৎ শব্দ তৈরির যোগ্যতা থাকতে হবে
৪. নতুন শব্দ গঠন করার ক্ষমতা থাকতে হবে
৫. একাধিক শব্দকে সংকোচিত করার ক্ষমতা থাকতে হবে
৬. শব্দগুলোর বিভক্তি লোপ পেতে হবে

শব্দ অনুচ্ছেদ | শেষ অংশ

উপসর্গের সংজ্ঞা ও প্রকরণ

বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে। এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন :
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়       
২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়       
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে                
৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে         
৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে
ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশের নাম উপসর্গ। যেমন : ‘কাজ’ একটি শব্দ। এর আগে ‘অ’ অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় ‘অকাজ’- যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ। এখানে অর্থেও সংকোচন হয়েছে।
‘পূর্ণ’ (ভরা) শব্দের আগে ‘পরি’ যোগ করায় ‘পরিপূর্ণ’ হলো। এটি পূর্ণ শব্দের সম্প্রসারিত রূপ (অর্থে ও আকৃতিতে)।